BSAEU B.Ed 1st Semester Practicum Bengali Version || Course: 1.1.2, Contemporary India & Education || Planning & Implementation of Activities-(E) Creating Awareness among SC/ST Students about Various Schemes and Scholarships Available to them.

Table of Contents

ভূমিকা (Introduction):

নানা ভাষা, নানা জাতি, নানা সম্প্রদায় অধ্যুষিত আমাদের এই দেশ ভারতবর্ষ।আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের মধ্যে দুটি গোষ্ঠী—একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সংখ্যাধিক জনগণ শিক্ষা, দীক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাচ্ছন্দ্য, আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক সুযোগ সুবিধা প্রভৃতি বিষয়ে অন্যদের অপেক্ষা এগিয়ে, আর অন্য একটি গোষ্ঠীর সদস্যগণ এ সমস্ত কিছু থেকে আবহমান কাল থেকে প্রথম গোষ্ঠীর জনগণ অপেক্ষা পিছিয়ে।এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর সদস্যগণকে সামাজিকভাবে সুযোগ-বঞ্চিত শ্রেণি বলে অভিহিত করা হয। এরা ভারতীয় সংবিধানে তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রায় মধ্য ভাগ থেকে এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর মানুষদেরকে ‘Depressed Classes’ অর্থাৎ অন্ত্যজ বলে অভিহিত করা হত।এই সমস্ত মানুষগণ দীর্ঘকাল যাবৎ ‘অস্পৃশ্যতা’ নামক এক বিরাট সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন।এই সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভারতীয় মনীষীগণ যেমন—জাতির জনক মহাত্মা গান্ধি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ তীব্রভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন।

তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতির সংজ্ঞা (Definition of Scheduled Caste and Scheduled Tribe):

তপশিলি জাতি অর্থাৎ ‘Scheduled Caste’ শব্দটি ব্রিটিশ সরকারের আমলে The Government of India (Scheduled Caste) Order, 1936-এর মধ্যে দিয়ে প্রথম প্রচারিত হয়। ‘Scheduled Caste’ শব্দটির সংজ্ঞা হিসেবে Government of India Act 1935-এ বলা হয়েছিল— “Such castes, races or tribes or parts of groups within castes, races or tribes, which appear to His Majesty in Council to correspond to the classes of persons formerly known as the ‘Depressed Classes’ as His Majesty in Council may prefer.” ভারতবর্ষ স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর তফশিলি জাতির এই সংজ্ঞাকে স্বীকার করে নিয়ে ভারতবর্ষের গণপরিষদ সংবিধানের 341 এবং 342 নং ধারা অনুসারে, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্য সমূহের রাজ্যপালগণকে ভারতবর্ষের সমস্ত তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা ও ভবিষ্যতে প্রয়োজনানুসারে তার সংযোজন ও সংশোধনের দায়িত্ব ও অধিকার প্রদান করেন। এর ফলশ্রুতিস্বরূপ The Constitution (Scheduled Caste) Order, 1950 এবং The Constitution (Scheduled Tribes) Order, 1950 নামক দুটি আদেশের মাধ্যমে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং এই সমস্ত পিছিয়ে পড়া মানুষদের চিহ্নিত করার জন্য 1950 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় সংবিধানের First Schedule অর্থাৎ প্রথম তালিকাতে ভারতবর্ষের 25টি রাজ্যের 1108টি জাতি ও 22টি রাজ্যের 744টি উপজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকা অর্থাৎ তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতিকে যথাক্রমে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি বলা হয়। পরবর্তী কালে আরও কিছু জাতি ও উপজাতিকে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যাপারে ভারতীয় মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থা নির্ধারণ করার জন্য ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ 2005 খ্রিস্টাব্দে মহামান্য দিল্লি। হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মহামান্য রাজেন্দ্র সাচার মহাশয়ের নেতৃত্বে 7 জন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন, যাঁদের মধ্যে 4 জন ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। এই কমিটি ‘সাচার কমিটি’ নামে পরিচিত। তদনুসারে এই কমিটি সমস্ত বিষয় অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে 2006 খ্রিস্টাব্দে 30 নভেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে 403 পাতার একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সাচার কমিটি তার রিপোর্টে বলে যে এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে হিন্দু ছাড়াও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষজনও আছেন যাঁদের সেই সম্প্রদায়ভুক্ত মোট জনগণের শতকরা হিসাবের ক্রমানুসারে বিবরণ পরের পৃষ্ঠায় একটি তালিকার সাহায্যে উল্লেখ করা হল।

তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতিদের সংবিধানিক ব্যবস্থা সমূহ (Constitutional Rights of Scheduled Castes and Scheduled Tribes):

তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতিদের জন্য সাংবিধানিক ব্যবস্থাসমূহ তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির মানুষেরা যাতে সমাজে বৈষম্যের শিকার না হন সেই জন্য ভারতীয় সংবিধানে বিবিধ সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেই সমস্ত সংস্থানসমূহকে সফল ও পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার বিবিধ আইন প্রণয়ন করেছেন যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল

  1. The Untouchability Practices Act, 1955.
  2. Scheduled Caste and Scheduled Tribe (Prevention of Atrocities) Act, 1989.
  3. The Employment of Manual Scavengers and Construction of Dry Latrines (Prohibition) Act, 1993 প্রভৃতি।

ভারতীয় সংবিধানের Directive Principle of State Policy, Article 46-এ বলা হয়েছে, “The State shall promote with special care the educational and economic interests of the weaker sections of the people and, in particular, of the Scheduled Castes and the Scheduled Tribes, and shall protect them from social injustice and all forms of exploitation.”

সংবিধানের 15(1) নং ধারায় বলা হয়েছে- The State shall not discriminate against any citizen on grounds only of religion. race, caste, sex place of brith or any of them.” 15(5) নং ধারায় বলা হয়েছে, “Nothing in this article or in sub-clause (g) of clause (1) of article 19 shall prevent the state from making any special provision, by law, for the advancement of any socially and educationally backward classes of citizens or for the Scheduled castes or the Scheduled Tribes in so far as such special provisions relate to their admission to educational institutions including private educational institutions, whether aided or unaided by the state, other them the minority educational institutions referred to in clause (1) of article 30.”

এই নির্দেশসমূহকে বাস্তবায়িত করার জন্য কেন্দ্রীয় ও সকল রাজ্য সরকার সমস্ত রকমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

ভারতীয় সংবিধানে সকল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য চাকুরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগসুবিধা লাভের অধিকার প্রবর্তন করা হয়েছে। সংবিধানে বলা হয়েছে,

  1. Shall be equality of opportunity for all citizens in matters relating to employment or appointment to any office under the State [Act 16 (1)]
  2. No citizen shall, on grounds only of religion, race, caste, sex, descent, place of birth, residence or any of them, be ineligible for, or discriminated against in respect of, any employment or office under the State [Act 16(2)].

কিন্তু এই সমান সুযোগসুবিধার অধিকারের নামে যাতে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিদের অধিকার ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে বলা হয়েছে—

  1. Nothing in this article shall prevent the State from making any provision for the reservation of appointments or posts in favour of any backward class of citizens which, in the opinion of the State is not adequately represented in the services under the State [ (Art. 16 (4))..
  2. Nothing in this article shall prevent the State from making any provision for reservation [in matters of promotion, with consequential seniority, to any class] or classes of posts in the services under the State in favour of the Scheduled Castes and the Scheduled Tribes which in the opinion of the State, are not adequately represented in the services under the State [Art. 16(4A)].

সংবিধানের এই নির্দেশাবলিকে মান্যতা দিয়ে সমস্ত কেন্দ্র সরকারি, রাজ্য সরকারি ও স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে দেশের সর্বোচ্চ থেকে সাধারণ প্রভৃতি সমস্ত পদে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতির উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ (Barriers in the Process of Upliftment of Scheduled Caste and Scheduled Tribe):

তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিদের পশ্চাৎপদতার কারণ হল যুগযুগান্ত ধরে তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার। যুগান্তব্যাপী লালিত অন্ধ কুসংস্কার, ভূমির অধিকারের অভাব, অর্থনৈতিক অপ্রতুলতা, সামাজিক বৈষম্য, অশিক্ষা, অজ্ঞতা, সুযোগের অভাব প্রভৃতি প্রতিবন্ধকতা তাদের উন্নয়নের পথে বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সকল প্রতিবন্ধকতাগুলিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে—

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা (Social Barrier):

তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিদের পশ্চাৎপদতার সর্বাপেক্ষা বড়ো কারণ হল সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। দীর্ঘকাল ধরে সমাজের অন্যান্য অগ্রসর জাতি বা সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতিদের মধ্যে এক বিরাট অসম বিকাশ বিদ্যমান। দীর্ঘকাল ধরে তপশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষরা জীবনযাপন ও এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে পদে পদে হোঁচট খেয়েছে। সমাজে তারা ছিল অস্পৃশ্য, ব্রাত্য। ফলে তারা কোনোদিনই সমাজের বিভিন্ন কাজে প্রাণ খুলে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সমাজে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। তাদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ দাস প্রথার শিকার ছিল।

অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা (Economical Barrier):

সামগ্রিক উন্নয়নের একটি অন্যতম বড়ো হ অর্থনৈতিক উন্নয়ন। তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির লোকেরা দীর্ঘদিন সমাজে অস্পৃশ্য, ব্রাত্য হয়ে থাকার কারণে সমাজের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে নিজেদেরকে উপযুক্তরূপে জড়িত করার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। সামাজিক নিপীড়ন, নিষ্পেষণ ও বৈষম্য তাদের অর্থনৈতিক জীবনকে পঙ্গু করে তুলেছিল। কৃষিনির্ভর ভারতীয় সমাজ-ব্যবস্থায় এই সমস্ত ‘Depressed Classes’-এর মানুষদের উপযুক্ত পরিমাণে ভূমির মালিকানার অধিকারের অভাব ছিল। দাস প্রথার কারণে সমাজের বিত্তশালী মানুষদের অধীনে নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তারা বংশপরম্পরায় কাজ করতে বাধা হতে থাকার কারণে তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে।

সচেতনতার অভাব (Lack of Awareness):

উপযুক্ত সচেতনতার অভাব তাদের উন্নতি ও বিকাশের পথে অন্যতম বিরাট বাধা। যদিও তাদের জীবনে শিক্ষার সুযোগের অপ্রতুলতা ছিল তথাপি শিক্ষা সম্পর্কে উপযুক্ত সচেতনতার অভাব শিক্ষার আলোক থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান ও চেতনার অভাবে কন্যাসন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠানো, নাবালিকা বিবাহ, অন্য সন্তানদের উপযুক্ত বয়সে স্কুলে না পাঠানো বা তাদের মাঝপথে স্কুল থেকে Drop Out হওয়া আটকানো সম্পর্কে উদাসীনতা প্রভৃতি বিষয়গুলি তাদের মধ্যে প্রবলভাবে ক্রিয়া করত। সচেতনতার অভাবের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি। এর ফলে অবশ্যম্ভাবীভাবে তাদেরকে দারিদ্র্য গ্রাস করে। এই সমস্ত কারণে তাদের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

অশিক্ষা (Illiteracy):

এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতার কবল থেকে তাদেরকে মুক্তি দিতে পারে শিক্ষার প্রসার। কিন্তু সমাজের উচ্চবর্ণের মানুষদের বিরোধিতা এবং গুরুগৃহে, বিদ্যালয়ে উচ্চবর্ণের ছাত্র ও শিক্ষকদের তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রভৃতি কারণে শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়। দারিদ্র্যের কারণে তারা শৈশবেই অর্থ উপার্জনের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। ফলে শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়। সাধারণত তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির লোকেরা শহর থেকে দূরে একটু প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করে। কিন্তু বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে বিদ্যালয়গুলি অপেক্ষাকৃত শহরাঞ্চলে অবস্থিত। ফলে বিদ্যালয়গুলি তাদের কাছে সহজগম্য ছিল না।

তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতিদের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহের প্রতিকার (Remedies in the Process of Upliftment of Scheduled Caste and Scheduled Tribe):

শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য শিক্ষাকে আরও বিষয়মুখী ও আকর্ষণীয় করতে হবে। তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত ছাত্রদের পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তাদের জন্য অধিক পরিমাণে অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে তপশিলি উপজাতিভুক্ত ছাত্রদের জন্য মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত পরিবারের কন্যাসন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে নাবালিকা-বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

বর্তমানে সরকার তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত ছাত্রদের সার্বিকভাবে বিদ্যালয়মুখী করা ও মাঝপথে Drop Out রোধ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা করেছেন, যেমন—মিড ডে মিল, শিক্ষাশ্রী প্রভৃতি, Pre Matric 6 Post Matric Scholarship প্রভৃতি। এর ফলে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত ছাত্ররা বেশি করে। বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে।

তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত মানুষদের সার্বিকভাবে উন্নয়ন ঘটানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Backward Welfare Department নামে একটি বিভাগ খোলা হয়েছে যার প্রধান লক্ষ্য ও কর্মসূচি হল

(1) তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষামূলক প্রকল্পগুলি ও তৎসহ তাদের স্ব-রোজগারের ব্যবস্থা করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির সফল

রূপায়ণ করা।

(ii) তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত মানুষদের প্রয়োজনীয় জাতিগত শংসাপত্র বিলি-ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সরকারি অফিস, সরকারি ও স্বশাসিত সংস্থা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অফিসগুলিতে চাকুরিক্ষেত্রে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিভুক্ত মানুষদের জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যা সংরক্ষণের বিষয়টি যথাযথভাবে কার্যকরী হচ্ছে কিনা তার সক্রিয় তদারক করা।

(iii) তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।

(iv) তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সফল রূপায়ণ করা, দরিদ্র তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি-প্রধান এলাকাগুলিতে তাদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং Community Asset গড়ে তোলা।

(v) দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী ষাটোর্ধ্ব বয়সের তপশিলি উপজাতির মানুষদের জন্য বার্ধক্য ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

(vi) তপশিলি জাতি ও উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা।

(vii) তপশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের জন্য রাস্তাঘাট প্রভৃতির উন্নয়ন ঘটানো, বিদ্যালয় নির্মাণ ও সংস্কারসাধন করা, ক্ষুদ্রসেচ, পানীয় জলের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।এ ছাড়াও তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা (MSY), আদিবাসী মহিলা স্বশক্তিকরণ যোগমা (AMSY) প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা।

(viii) তপশিলি জাতি ও উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য আশ্রম, হোস্টেলে চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রদান, বিশেষ প্রশিক্ষণ (Special Coaching) ও কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

এই সব বিষয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ছাত্রছাত্রীদের নিকটবর্তী BDO অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার Project Officer-cum-District Welfare Officer-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ও বৃত্তিসমূহ (Various Types of Incentives for the Upliftment of Scheduled Caste and Scheduled Tribes) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তপশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতিভুক্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য Pre-Matric & Post Matric স্তরে বিভিন্ন বৃত্তি (Scholarship) এবং Fellowship-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Pre-Matric Scheme:

শিক্ষাশ্রী:

পশ্চিমবঙ্গ সরকার পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত তপশিলি জাতির অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাশ্রী নামে একটি বৃত্তি চালু করেছেন যার মাধ্যমে উপরোক্ত প্রতিটি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের যাদের পারিবারিক আয় বছরে 2,50,000 টাকার কম তারা সরকারের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বার্ষিক অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে। এই অর্থ সাহায্যের পরিমাণ হল পঞ্চম শ্রেণির জন্য 500 টাকা, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য 650 টাকা, সপ্তম শ্রেণির জন্য 700 টাকা এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য 800 টাকা। এই প্রকল্পের টাকা পেতে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকার মাধ্যমে জেলার Project Officer cum-District Welfare Officer-এর নিকট দরখাস্ত পাঠাতে হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীর কোর ব্যাংকিং সুবিধাযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে যেখানে জেলার Project Officer-cum-District Welfare Officer সরাসরি তার টাকা পাঠিয়ে দেবেন। এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা একটি Website, যেমন- oasis.gov.in এর মাধ্যমে Online-এ দরখাস্ত করে সরাসরি তাদের Bank Account-এ ‘শিক্ষাশ্রীপ্রকল্পের টাকা পেতে পারে।

আশ্রম-হোস্টেল প্রকল্প:

তপশিলি জাতি ও উপজাতির ছাত্র ও ছাত্রী যাদের অভিভাবকদের বার্ষিক আয় 36000 টাকার মধ্যে তাদের আবাসিকভাবে পঠনপাঠনের সুযোগ দানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘আশ্রম-হোস্টেল প্রকল্পচালু করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপরোক্ত তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত ছাত্র ও ছাত্রীরা আশ্রম-হোস্টেলে থেকে পঠনপাঠন করতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে 98টি এরকম আর এখানকার আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রতিমাসে 750 টাকা Maintenance Allowance পাবে। এ ছাড়াও তারা প্রয়োজনীয় খাট, বিছানা, পোশাক-পরিচ্ছদ, সাবান, কেরোসিন প্রভৃতিও পাবে। হোস্টেল চালু করা হয়েছে।

Centrally Sponsored Scheme of Pre-Matric Scholarship to Scheduled Castes Students:

বার্ষিক 2,00,000 টাকার কম আয় যুক্ত তপশিলি জাতি ভুক্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের Pre-Matric স্তরে Drop out কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে Ministry of Social Justice & Empowerment-এর ‘Centrally Sponsored Scheme of Pre-Matric Scholarship to the Scheduled Caste Students’ নামে একটি বৃত্তি চালু আছে, যার আওতায় নবম ও দশম শ্রেণিতে পাঠরত তপশিলি জাতির অনাবাসিক ও আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা প্রতি বছরের জন্য 10 মাস করে প্রতি মাসে যথাক্রমে 150 এবং 350 টাকা বৃত্তি ও বছরে একবার যথাক্রমে 7501000 টাকা করে বুক গ্র্যান্ট পেতে পারে। এখানে উল্লেখনীয় যে ওই সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং Government, Local Body. Government Aided স্কুলের ছাত্রছাত্রী তারা কেন্দ্রীয় সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের দ্বারা রূপায়িত Inclusive Education of the Disabled at Secondary Stage (IEDSS) প্রকল্পের Student Oriented Component-এর মাধ্যমে বার্ষিক 3000 টাকা পেয়ে থাকে। কিন্তু যেহেতু un-aided স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা IEDSS প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নয় সেজন্য ওই সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা শরীরিক প্রতিবন্ধী তারা উপরোক্ত অর্থ ছাড়াও অন্ধ ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 160 টাকা Reader Allowance, যারা স্কুলের মধ্যে অবস্থিত হোস্টেলে থাকে না তারা বাড়ি থেকে আসার জন্য প্রতিমাসে 160 টাকা Transport Allowance, 80% এর বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 160 টাকা Escort Allowance, মানসিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 240 টাকা Coaching Allowance ইত্যাদি অতিরিক্ত ভাতা পেতে পারে। এই প্রকল্পের বৃত্তি রাজ্যসরকারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে।

Centrally Sponsored Scheme of Pre-Matric Scholarships for needy Scheduled Tribe Students Studying in Classes IX and X:

কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Tribal Affairs বার্ষিক 2,00,000 টাকার কম আয়যুক্ত তপশিলি উপজাতি পরিবারের নবম ও দশম শ্রেণিতে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের Pre-Matric স্তরে Drop Out কমানোর জন্য Centrally Sponsored Scheme of Pre-Matric Scholarships for needy Scheduled Tribe Students Studying in Classes IX and X নামে একটি বৃত্তি চালু করেছেন যার আওতায় নবম ও দশম শ্রেণিতে পাঠরত তপশিলি উপজাতির অনাবাসিক ও আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবছরের জন্য 10 মাস করে প্রতিমাসের জন্য যথাক্রমে 150 এবং 350 টাকা করে বৃত্তি ও বছরে একবার যথাক্রমে 7501000 টাকা করে বুক গ্রান্ট পেতে পারে। এই সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা অম্ল তারা উপরোক্ত অর্থ ছাড়াও প্রতি মাসে 160 টাকা Reader Allowance, যারা স্কুলের মধ্যে অবস্থিত হোস্টেলে থাকে না তারা বাড়ি থেকে আসার জন্য প্রতিমাসে 160 টাকা Transport Allowance, 80%-এর বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 160 টাকা Escort Allowance, মানসিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 240 টাকা Coaching Allowance ইত্যাদি অতিরিক্ত ভাতা পেতে পারে। এই প্রকল্পের অর্থ রাজ্য সরকারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে।

Dr. Ambedkar National Merit Award Scheme:

দশম শ্রেণির Final পরীক্ষায় অনান 50% নম্বর সহ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে থেকে প্রতি Board-এর জন্য চার জন। করে তপশিলি জাতি ও চার জন করে তপশিলি উপজাতির সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক ছাত্রছাত্রীরা Dr. Ambedkar Foundation-এর নিকট থেকে জীবনে একবার Dr. Ambedkar National Merit Award পেতে পারে।এই Award-এর অর্থমূল্য নিম্নরূপ:

(1) Student Securing Highest Marks-60,000 Rs.

(2) Student Securing 2nd Highest Marks- 50,000 Rs.

(3) Student Securing 3rd Highest Marks- 40,000 Rs.

(4) Girl Student Securing Highest Marks (In case she is not in the above Categories)-40,000. Rs. Total= 1,90,000 Per Board/ Council.

এই Scheme-এর লক্ষ্য হল তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বীকৃতি, উৎসাহ ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান। এই বৃত্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই যে, ছাত্রছাত্রীরা অন্যান্য বৃত্তি পেলেও একইসঙ্গে। এই বুদ্ধিম অর্থও পেতে পারে।

এ ছাড়াও তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির মোট জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে 3rd Highest Mark প্রাপকের পরবর্তী স্থানাধিকারী থেকে 167 জন তপশিলি জাতি ও 83 জন তপশিলি উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য মোট 250টি Special Merit Award-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে যার প্রতিটি অর্থমূল্য 10,000 টাকা।

Central Sector Scheme of Pre-Matric Scholarship for Students with Disabilities:

কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice and Empowerment-এর অধীনস্থ Department of Empowerment of persons with Disabilities-এর অধীনে 40%-এর বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের নবম ও দশম শ্রেণিতে পঠনপাঠনে সহায়তার জন্য Central Sector Scheme of Pre Matric Scholarship for Student with Disabilities নামে একটি বৃত্তি চালু আছে। এই প্রকল্পের আওতায় বার্ষিক 2,00,000 টাকার নীচে আয়যুক্ত পরিবারের নবম ও দশম শ্রেণিতে পাঠরত প্রতিবন্ধী অনাবাসিক ও আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা প্রতি শিক্ষাবর্ষে 10 মাসের জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 350600 টাকা করে বৃত্তি এবং বছরে 7501000 টাকা করে বুক গ্রান্ট পেতে পারে। এ ছাড়াও ওই সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা অন্য তারা উপরোক্ত অর্থ ছাড়াও প্রতিমাসে 160 টাকা Reader Allowance, যারা স্কুলের মধ্যে অবস্থিত হোস্টেলে না থেকে বাড়ি থেকে আসে তারা প্রতিমাসে 160 টাকা Transport Allowance, 80%-এর বেশী প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 160 টাকা Escort Allowance, মানসিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 240 টাকা Coaching Allowance ইত্যাদি ভাতা পেতে পারে। এই প্রকল্প National Scholarship Portal (NESP)-এর মাধ্যমে সরাসরি Department of Empowerment of Persons with Disabilities-এর দ্বারা রূপায়িত হয় এবং PEMS portal-এর সাহায্যে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ওই অর্থ প্রদান করা হয়।

Post Matric স্তরের Scheme:

Centrally Sponsored Scheme of Post Matric Scholarship to the students belonging to Scheduled Castes for Studies in India:

কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice & Empowerment বার্ষিক 250,000 টাকার নীচে পারিবারিক আয় যুক্ত তপশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের Post Matric স্তরে Scheme of Post Matric Scholarship to the Students belonging to Scheduled Caste for Studies in India’ নামে একটি বৃত্তি চালু করেছেন যার আওতায় আবাসিক ও অনাবাসিক তপশিলি জাতির ছাত্রছাত্রীরা নিম্নলিখিত হারে Maintainnce Allowance হিসেবে

  1. ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভেটেরিনারি, এগ্রিকালচার, ডিজাইন টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স, কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স, সিএ/আইসিডবুএ, এমফিল, পিএইচডি, ডিলিট, এলএলএম প্রভৃতি বিভিন্ন কোর্সে পড়ার জন্য প্রতি মাসে যথাক্রমে 1250550 টাকা করে।
  2. বি ফার্মা, বি নার্সিং, এমএ, এমএসসি, এমএড, এলএলবি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন প্রভৃতি বিবিধ কোর্স করার জন্য প্রতি মাসে যথাক্রমে 820530 টাকা করে। বিএ, বিএসসি, বিকম ইত্যাদি পড়ার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 570300 টাকা করে।
  3. আইটিআই, পলিটেকনিক ইত্যাদি কোর্স করার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 380230 টাকা করে পেতে পারেন।

Scheme of Top Class Education for SC Students:

কেন্দ্রীয় সরকারের Central Sector Scholarship Scheme of Top Class Education for SC Students নামে একটি Scheme আছে। এই Scheme-এর আওতায় বার্ষিক 2,00,000 টাকার নীচে আয়যুক্ত তপশিলি জাতিভুক্ত IIT. IIM, NET AIMS, Juridical Science of Salt Lake প্রভৃতির মতো কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত 219টি অতি উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য Tuition Fees বাবদ বছরে 2,00,000 টাকা বৃত্তিসহ কম্পিউটার কেনার জন্য 45000 টাকা, খাওয়া খরচ বাবদ মাসে 2200 টাকা, বইপত্র কেনার জন্য বছরে 3000 টাকা ইত্যাদি আরও কিছু ভাতা পেতে পারেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ তপশিলি জাতিভুক্ত দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের অতি উন্নতমানের শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই প্রকল্পের অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice and Empowerment সম্পূর্ণ বহন করে এবং সেই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়।

Post-Matric Scholarship (PMS) for ST Students:

বার্ষিক 2,50,000 টাকার কম আয়যুক্ত তপশিলি উপজাতি পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের Post-Matric স্তরের প্রফেশনাল, নন-প্রফেশনাল, নন-টেকনিক্যাল, দূরশিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্স ইত্যাদিতে পঠনপাঠনের সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice & Empowerment-এর Post Matric Scholarship (PMS) for ST Students নামে একটি Scheme চালু আছে। এই Scheme-এর আওতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি/ডিপ্লোমা যেমন ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভেটেরিনারি, এগ্রিকালচার, টেকনোলজি ডিজাইন, কম্পিউটার সায়েন্স প্রভৃতি বিভিন্ন কোর্সে পড়ার জন্য আবাসিক ও অনাবাসিক তপশিলি উপজাতির ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে যথাক্রমে 1250550 টাকা করে বিফার্মা, এলএলবি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইন্টিরিয়র ডেকরেশন প্রভৃতি বিবিধ কোর্স করার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 820530 টাকা করে আইটিআই, পলিটেকনিক ইত্যাদি কোর্স করার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 380230 টাকা করে, বিএ, বিএসসি, বিকম ইত্যাদি পড়ার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 570300 টাকা করে Maintainnce Grant এবং আরও কিছু গ্রান্ট পেতে পারেন।

National Fellowship for Higher Education of Scheduled Tribe Students:

শিক্ষার দিক থেকে অধিকতম পশ্চাৎপদ তফশিলি উপজাতি পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার আলো জ্বেলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Tribal Affairs-এর অর্থানুকূল্যে UGC-এর National Fellowship For Higher Education of Scheduled Tribe Students নামে একটি Scheme চালু আছে। এই Scheme এর আওতায় তপশিলি উপজাতি পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা M.Phil. PhD করার জন্য প্রথম দুই বছর (JRF) প্রতি বছরে 25000 টাকা এবং পরবর্তী বছরগুলিতে (SRF) প্রতি বছর 28,000 টাকা করে বৃত্তি পাবেন। তা ছাড়াও আর্টস গ্রুপের গবেষণা করার জন্য প্রথম দুই বছর প্রতি বছরের জন্য 10,000 টাকা ও কার্যকালের অবশিষ্ট বছরগুলির জন্য 20,500 ঢাকা করে Contingency পাবেন। এ ছাড়াও শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অর্থ তপশিলি উপজাতির ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে 2000 টাকা করে Escort/Reader Assistance ও নির্দিষ্ট হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন। এই Scheme টি পূর্বে The Rajiv Gandhi National Fellowship (RGNE) নামে পরিচিত ছিল। সারা দেশে মোট 750 জন ছাত্রছাত্রী মেবার ভিত্তিতে এই সুযোগ পেতে পারেন।

Scheme of Post-Matric Scholarship for Students with Disabilities:

বার্ষিক 2,50,000 টাকার কম পারিবারিক আয়যুক্ত Higher Secondary উত্তীর্ণ প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের Post-Matric স্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি/ডিপ্লোমা কোর্সে পঠনপাঠনে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice & Empowerment- Department of Empowerment of Persons with Disabilities Central Sector Scheme of Post Matric Scholarship for students with Disabilities নামে একটি Scheme চালু আছে। এই Scheme-এর আওতায় ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভেটেরিনারি, এগ্রিকালচার টেকনোলজি, ডিজাইন, কম্পিউটার সায়েন্স প্রভৃতি বিভিন্ন কোর্সে পড়ার জন্য আবাসিক ও অনাবাসিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা প্রতিমাসে যথাক্রমে 1250550 টাকা করে, বিফার্মা, এলএলবি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইন্টিরিয়র ডেকরেশন ও 530 প্রভৃতি বিবিধ কোর্স করার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে 820 প্রতিমাসে যথাক্রমে 570300 টাকা করে, আইটিআই পলিটেকনিক টাকা করে বিএ, বিএসসি, বিকম ইত্যাদি পড়ার জন ইত্যাদি কোর্স করার জন্য প্রতিমাসে যথাক্রমে ও 230 টাকা করে মেইন্টেনেন্স গ্রান্ট এবং আরও কিছু গ্রান্ট পেতে পারেন।

Central Sector Scheme of Scholarship for Top-Class Education for Students with Disabilities:

কেন্দ্রীয় সরকারের Ministry of Social Justice & Empowerment-এর অধীনস্থ Department of Empowerment of Persons with Disabilities 40%-এর বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য Central Sector Scheme of Scholarship for Top class Education for Students with Disabilities নামে একটি বৃত্তি চালু করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় বার্ষিক 6,00,000 টাকার নীচে আয়যুক্ত পরিবারের প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা IIT, IIM NIT, AIMS, Juridical Science of Salt Lake প্রভৃতির মতো অতি উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য প্রতিবছর Tuition Fees বাবদ বছরে 2100,000 টাকা অনাবাসিক ও আবাসিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীরা যথাক্রমে 15003000 টাকা করে Maintainnce Grant, প্রতিমাসে 2000 টাকা বিশেষ ভাতা, বই, খাতাপত্র ক্রয়ের জন্য বছরে 5000 টাকা, কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য একবার 30,000 টাকা, Aids and Assistive Devices ক্রয়ের জন্য একবার 30,000 টাকা। প্রভৃতি পেতে পারেন। সারা দেশে মোট 160 জন ছাত্রছাত্রী মেধার ভিত্তিতে এই সুযোগ পেতে পারেন।

Scheme of UGC for ST Students:

University Grants Commission-431 National Fellowship of Persons with Disabilities for Pursuing MPhil and PhD নামে তপশিলি উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি Scheme আছে যার আওতায় তপশিলি উপজাতির ছাত্রছাত্রীরা MPhil and PhD করার জন্য প্রথম দুই বছর (JRF) প্রতি মাসে 25000 টাকা এবং অবশিষ্ট বছরের (SRF) জন্য প্রতিমাসে 28000 টাকা করে Fellowship পাবেন। তা ছাড়াও আর্টস গ্রুপের গবেষণা করার জন্য প্রথম দুই বছরের প্রতি বছর 10,000 টাকা এবং অবশিষ্ট বছরের জন্য প্রতি বছর 20,500 টাকা করে এবং সায়েন্স গ্রুপ-এর গবেষণা করবে জন্য প্রথম দুই বছর প্রতি বছর 12000 টাকা করে এবং অবশিষ্ট বছরের জন্য প্রতি বছর 25,000 টাকা করে Contingency সহ আরও কিছু ভাতা পাবেন। এই Schemeটি University Grants Commission-এর দ্বারা রূপায়িত হয়। এই Scheme-এর মাধ্যমে সারা দেশে বছরে মোট 200 জনকে Junior Research Fellowship দেওয়া হয়।

উপসংহার (Conclusion):

তপশিলি জাতি ও উপজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বোক্ত বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থাকাটাই। তাদের উচ্চশিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এই সমস্ত সুযোগসুবিধা লাভ করতে গেলে তাদের নিজস্ব শিক্ষার মান ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের শিক্ষার মান উপযুক্ত স্তরে না পৌঁছোলে তারা সমগোত্রীয় অন্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। প্রতিযোগিতায় পরাজিত হবে। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য ওই সমস্ত অবস্থা বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তারা উপযুক্ত উচ্চি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাই তাদেরকে প্রথম থেকেই শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে সচেষ্ট হতে হবে। সরকা কর্তৃক ওই সমস্ত ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। তাদের শিক্ষার মান ও যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিমণ্ডল তৈরি করার দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

Reference:

মুখোপাধ্যায়, চন্দ, সমকালীন ভারতবর্ষ ও শিক্ষা, আহেলী পাবলিশার্স, কোলকাতা

রায় প্রদীপ্তরঞ্জন, সাম্প্রতিক ভারতবর্ষ ও শিক্ষা, রীতা পাবলিকেশন, কোলকাতা

DAS Coaching PDF Download

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending Posts
-February 23, 2024
-February 22, 2024
Author

Soumen Das

I am SOUMEN DAS, founder of DAS COACHING. I have been associated with this DAS COACHING online educational platform for 4 years. I am a blogger, YouTuber and teacher. I have been involved in teaching profession for 8 years.

Follow Me

Top Picks
Newsletter
Categories
Edit Template

DAS COACHING is the most trustworthy Learning Site in India and West Bengal. Learn with Us and Buy Our E-Books

© DAS Coaching 2024

Design by Krishanu Chakraborty

Contacts

error: Content is protected !!
×

Hello!

Click one of our contacts below to chat on WhatsApp

× How can I help you?