BSAEU B.Ed. 1st Semester Practicum Bengali Version || Course: 1.1.2, Contemporary India & Education || Critical Analysis of Different Committees And Commission on Education.

Table of Contents

ভূমিকা (Introduction):

1947 সালের 15 ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভারত সরকার সমগ্র ভারতে এক উচ্চতর নতুন শিক্ষা পরিকাঠামো গঠনের লক্ষ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা কমিশন ও শিক্ষা কমিটি গঠন করেন।যার ফলস্বরূপ ভারতের শিক্ষা ক্ষেত্রে আসে অভাবনীয় পরিবর্তন ও উন্নয়নএই কমিশন ও কমিটি গুলির মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় উচ্চতর শিক্ষার সার্বিক উন্নতি সাধন, প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি।

শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটি ও কমিশন (Different Committees & Commission of Education)

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার কালে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়েছে।এইসব কমিটি গুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার চরম উন্নতি সাধন ও পরিকাঠামোগত পরিবর্তন।তবে প্রশ্নঃ অনুযায়ী সমস্ত কমিশন ও কমিটি এই ব্যবহারিক কার্যক্রমে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।তাই শুধুমাত্র স্বাধীনতার ফলে রাধাকৃষ্ণন কমিশন  (1948-49),  ভারতীয় শিক্ষা কমিশন(1964-66), হার্টগ কমিটি(1929) এবং ভক্তবৎসলম কমিটি (1963) নিয়ে আলোচনা করা হলো।

রাধাকৃষ্ণন কমিশন(1948-49) (Radhakrishnan Commission)

স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন হল রাধাকৃষ্ণন কমিশন1948 সালে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এর সভাপতিত্বে এই কমিশন ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত হয়।ড: তারাচাঁদ, ড: জাকির  হোসেন, ড: লক্ষণ স্বামী মুদালিয়র, ড: মেঘনাথ সাহা, ড: করোম নারায়ন, ড: নির্মলকুমার সিদ্ধান্ত এই কমিশনের সদস্য ছিলেন।এছাড়া তিন জন বিদেশী সদস্য ছিলেন, তারা হলেন ড: আর্থার-ই -মরগ্যান, ড: জেমস এফ ডাফ এবং ড. টি গার্ট 

উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য (Aims of Higher Education)

স্বাধীনতা লাভের পর উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই অবস্থায় রাধাকৃষ্ণ কমিশন উচ্চশিক্ষা যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন সেগুলো হলো –

যোগ্য নেতা তৈরি:

কমিশনের মতে উচ্চ শিক্ষার একটা বড় কাজ হলো ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্য নেতৃত্ব দান সহ নেতা তৈরি করা।

চরিত্রের বিকাশ:

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক বিকাশ ঘটিয়ে দৃঢ় চরিত্রের মানুষ তৈরি করা।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:

শিক্ষার একটি কাজ হলো জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর সংরক্ষণ ও সঞ্চালন।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ:

উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাবধারা তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা।

প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার:

প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা হবে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার লক্ষ্য।

শিক্ষার মাধ্যমে (The medium of Education)

রাধাকৃষ্ণন কমিশনের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ত্রিভাষা সূত্রের  কথা বলেছেন।এই 3 টি ভাষা হল মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা, যুক্তরাষ্ট্রীয় ভাষা এবং একটি বৈদেশিক ভাষা ।

নারী শিক্ষা (Women Education)

এই কমিশন নারী শিক্ষা সম্পর্কে যেসব সুপারিশ করে তা হল –

১. মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা ।

২.  সমাজে নারীদের উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান।

৩. শিক্ষা কর্মসূচিতে নারীদের যোগ্য ভূমিকা প্রধান ইত্যাদি।

পরীক্ষা পদ্ধতি (Exam. Method)

কমিশন পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য যে সুপারিশ গুলি করেছিল –

১. পরীক্ষায় objective type questions বেশি করে দেওয়া।

২. গ্রেস মার্ক তুলে দেওয়া।

৩. স্নাতকোত্তর ও বৃত্তিগত পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ।

৪. প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী পরীক্ষক সদস্য।

৫. সারা বছর ধরে অন্তর্বর্তী কাজের মূল্যায়ন।

ভারতীয় শিক্ষা কমিশন(1964-66) (Indian Education Commission)

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এম. সি. চাগলার উদ্যোগে ড. ডি. এস কোঠারির নেতৃত্বে 1964 সালে জুলাই মাসে একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।এই কমিশন ভারতীয় শিক্ষা কমিশন বা কোঠারি কমিশন নামে পরিচিত।এই কমিশনের বিশেষত্ব হল এখানে শিক্ষার সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর ও শিক্ষার বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

শিক্ষার কাঠামো (The Structure of Education)

কমিশন বিদ্যালয় শিক্ষার কয়টি স্তরের শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য কিছু  সুপারিশ করেন-

১. প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হবে ছয় বছর।

২. দুধরনের বিদ্যালয় হবে  a) মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং b) উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।

৩. সার্বিক শিক্ষার কাঠামোটি হবে ১০+২+৩±

পাঠক্রম (Curriculum)

কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী-

১. Lower Primary stage Class I to Class lV এর পাঠক্রম হবে-Mother tongue, Mathematics, scientific and social studies, Creative activities, social services, Health Education.

২. Higher Primary stage Class V to Class V।।। এর পাঠক্রম হবে দুটি ভাষা, গণিত,সামাজিক বিজ্ঞান,বিজ্ঞান, কলা, কর্মশিক্ষা, শারীর শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

৩. Lower Secondary stage Class IX to Class X এর পাঠক্রম হবে তিনটি ভাষা,বিজ্ঞান,গণিত,ইতিহাস,-ভূগোল,সমাজবিদ্যা,কারুশিল্প,কর্মঅভিজ্ঞতা, সমাজসেবা, শারীর শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা।

৪. Higher secondary Class Xl to Class Xll এর পাঠক্রম হলো- দুটি ভাষা, তিনটি পছন্দ অনুযায়ী বিষয়, কর্ম অভিজ্ঞতা, শারীর শিক্ষা, কলা, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের শিক্ষা

নারী শিক্ষা (Woman Education)

কোঠারি কমিশন নারী শিক্ষা প্রসারে যেসব সুপারিশ করেছিল তা হল –

১. নারী-পুরুষের শিক্ষার পার্থক্য যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।

২. গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য দিতে হবে।

৩. মেয়েদের জন্য পৃথক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।

৪. থাকার জন্য ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থা করা হবে।

৫. মেয়েদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার আয়োজন করতে হবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার (Reforms of Examination)

পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রসঙ্গে কমিশনের সুপারিশ গুলি হল –

১. প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

২. উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে লিখিত পরীক্ষা সঙ্গে সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

৩.জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রয়োজনবোধে State Evolution Organisation দ্বারা তৈরি অভীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মান যাচাই করা হবে।

৪. প্রতিটি স্তরের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ এর পরিমাপ এর ব্যবস্থা থাকবে।

৫. উচ্চ শিক্ষায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বহি পরীক্ষার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ ও নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যায়ন এর ব্যবস্থা করতে হবে ইত্যাদি ।

হার্টগ কমিটি (1929) (Hartog Committee)

সাইমন কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য হার্টগ কমিটি গঠন করা হয়।স্যার ফিলিপ হার্টগ ছিলেন এই কমিটির চেয়ারম্যান।1929 সালে সেপ্টেম্বর মাসে এই কমিটির রিপোর্ট জমা দেন।

কমিটির সুপারিশ (Recommendations of the Committee)

হার্টগ কমিটি ব্রিটিশ ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কালে যে সুপারিশ গুলি করেন তা হল –

১. সম্প্রসারণ নীতির পরিবর্তন Consolidation নীতি গ্রহণ।

২. প্রাথমিক শিক্ষার  পাঠদান  চার বছর করা।

৩. অপচয় ও উন্নয়নকে হার্স করার জন্য পাশ ফেল প্রথা হার্স করা।

৪. বিদ্যালয় পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে আরো পরিদর্শক নিযুক্ত করা।

৫. উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য প্রবেশিক পরীক্ষার আরো কঠোর করা।

নারী শিক্ষা ক্ষেত্রে সুপারিশ (Recommendations in the field of Women’s Education)

ভারতের নারী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কমিটির সুপারিশ হলো-

১. মেয়েদের জন্য অনুকূল পাঠ্যসূচি গ্রহণ।

২. যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষিকা ও পরিদর্শক নিয়োগ।

৩.প্রতিটি প্রদেশের নারীশিক্ষা সমপ্রসারণের জন্য একজন করে ডেপুটি ডিরেক্টর নিয়োগ।

কমিটির মূল্যায়ন (Evaluation of the Committee)

হার্টগ কমিটির সুপারিশ গুলি ছিল সময়োচিত এবং যথেষ্ট মূল্যবান রিপোর্টে উল্লেখিত সুপারিশগুলি স্বাধীনতার পরবর্তীকালে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। অপচয় ও অনুন্নয়ন দূর করতে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা আজও মূল্যবান।

ভক্তবৎসলম কমিটি(1963) (Bhaktavatsalam Committee)

স্বাধীনতার পরে নারীশিক্ষার যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার মধ্য থেকে ভক্তবৎসলম কমিটির রিপোর্ট অত্যন্ত  তাৎপর্যপূর্ণ।1963 খ্রিস্টাব্দে শ্রী ভক্তবৎসলমের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়েছিল।

কমিটির সুপারিশ (Recommendations of the Committee)

ভক্তবৎসলম কমিটির সুপারিশ গুলি হল –

১. গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রাথমিক স্তরে সহশিক্ষার প্রচলন করতে হবে।

৩. নারী শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার কেন্দ্রীয় সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।

৪. দুর্গম অঞ্চলের অতিরিক্ত বেতন ও ভাতা দিয়ে শিক্ষিকা নিয়োগ করতে হবে।

৫. শিক্ষিকাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে।

কমেটির  মূল্যায়ন (Evaluation of the Committee)

নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন ভক্তবৎসলম কমিটির সুপারিশ গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে এত সত্বেও শিক্ষার ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশেষ কিছু সুপারিশ ছিল না।

মন্তব্য (Conclusion):

উপরিউক্ত কমিটি ও কমিশন গুলি বিশ্লেষণ করে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তা হলো ভারতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারকে আরো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তাছাড়া নারী ও পুরুষের মধ্যে লিঙ্গ বিবেচনা করে সকল কে একত্রে শিক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে।তাছাড়া নারীশিক্ষা ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব সহ বিচার করতে হবে, প্রয়োজনে সম্ভব হলে সুপারিশ গুলি কে আবার পূর্ণ বিবেচনা করে দেখতে হবে।

সহায়ক পুঞ্জি:

১. চন্দ্র বিনায়ক, সমকালীন ভারত বর্ষ শিক্ষা,আহেলি  পাবলিকেশন, কলকাতা।

২. পাল দেবাশীষ,  সমকালীন ভারত ও শিক্ষা, রীতা পাবলিকেশন,কোলকাতা।

৩. ভক্ত ভক্তি ভুষণ, ভারতীয় শিক্ষার রূপরেখা, অ-আ-ক-খ প্রকাশনী কলকাতা।

৪. ঠাকুর দিলীপ কুমার, আধুনিক ভারতের শিক্ষার ধারা, রীতা পাবলিকেশন, কোলকাতা।

DAS Coaching PDF Download

সতর্কীকরণঃ

অ্যডমিনের অনুমতি ব্যতিত এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা কপি-পেস্ট করে অন্য কোন ব্লগসোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে পোস্ট করা কিংবা ছাপানো সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। অন্যথায় আইনত উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Warning:

It is strictly prohibited to copy-paste any text from this website and post it on any other blog, social media, etc. without the permission of the admin. Otherwise, appropriate legal action will be taken. 

👍If you like our content then comment in the comment box and share.😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending Posts
-February 23, 2024
-February 22, 2024
Author

Soumen Das

I am SOUMEN DAS, founder of DAS COACHING. I have been associated with this DAS COACHING online educational platform for 4 years. I am a blogger, YouTuber and teacher. I have been involved in teaching profession for 8 years.

Follow Me

Top Picks
Newsletter
Categories
Edit Template

DAS COACHING is the most trustworthy Learning Site in India and West Bengal. Learn with Us and Buy Our E-Books

© DAS Coaching 2024

Design by Krishanu Chakraborty

Contacts

error: Content is protected !!
×

Hello!

Click one of our contacts below to chat on WhatsApp

× How can I help you?