B.Ed 1st Semester Practicum Bengali Version || Course: 1.1.2, Contemporary India & Education || Study the Impact of the Right to Education Act on School

Table of Contents

ভূমিকাঃ

২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট Right to free and compulsory education Act (RTE) ভারতবর্ষের সংসদে পেশ করা হয়।পরবর্তীকালে ২০১০ সালে 16th February বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং ২০১০ সালের 1st April থেকে এটি আইন (Act) হিসেবে সারা ভারতে বলবৎ করা হয়। ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে এই ধরনের আইন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।এই আইনের ভালোমন্দ বিচার বিবেচনার দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় The National Commission for Protection of Child Rights বা NCPCR-র উপর।

শিক্ষার অধিকার আইন বা RTEA-র প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি:

RTEA-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যেগুলি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলি হল—

(১) অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা:

এই আইন অনুযায়ী ৬-১৪ বছর বয়সি সকল শিশুর বিদ্যালয়ে নাম নথিভুক্তকরণ, উপস্থিতি ও শিক্ষা সমাপ্তকরণে আর্থিক বাধা যেন কোনো কারণ না হয়। তাছাড়া শিশুর বাসস্থান থেকে ১ কিমি দূরত্বের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩ কিমি দুরত্বের মধ্যে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকতে হবে।

(২) বাধ্যতামূলক শিক্ষা:

এই আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক শব্দটি সরকারের জন্য প্রয়োজন।এ ক্ষেত্রে সরকারের কাজগুলি হবে নিম্নরূপ—

  1. সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে নাম নথিভুক্তকরণে সুযোগ দিতে হবে।
  2. বিদ্যালয় ছুট বা Drop-out হওয়া সমস্ত শিশুকে চিহ্নিত করতে হবে।
  3. সকল শিশু বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছে কিনা তা সুনিশ্চিত করা।
  4. সকল শিশু প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা
  5. অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাবার ব্যাপারে উৎসাহবোধ করেন।

(৩) বয়স অনুযায়ী শ্রেণি নির্বাচন:

এই আইনে শিশুদের বয়স অনুযায়ী শ্রেণি নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে।যেমন ১০ বছর বয়সি কোনো শিশুকে পঞ্চম শ্রেণিতেই ভর্তি করতে হবে

(৪) শিক্ষক:

  1. প্রত্যেক শিক্ষককে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ন্যূনতম শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
  2. শিক্ষক-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে।
  3. পার্শ্বশিক্ষক (Para-teacher)-র ধারণা বাতিল করতে হবে।

(৫) পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক:

দেশের সকল বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তক তৈরির সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক বয়স ও শিখন স্তরের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

(৬) বিদ্যালয়

  1. প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কর্মদিবস হবে যথাক্রমে ২০০ দিন ও ২২০ দিন।
  2. প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৪ ও ৫ ঘণ্টা পঠনপাঠনের ব্যবস্থা থাকবে।
  3. বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৩০ হলে ভালো।
  4. প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, রান্নাঘর এবং সীমানা নির্ধারণকারী দেয়াল থাকবে।
  5. পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগার ও পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা থাকবে।

(৭) মূল্যায়ন ব্যবস্থা:

  1. মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সারা বছর ধরে চলবে।
  2. পাশ-ফেল প্রথা থাকবে না।
  3. প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক Pupil Cumulative Record (PCR) তৈরি ও সংরক্ষণে উদ্যোগী হবেন।
  4. বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থী সহপাঠক্রমিক করছে কি না তার প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে।

(৮) বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য সংরক্ষণ:

  1. পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে ভরতি হতে পারে তার জন্য ২৫% আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
  2. পূর্বোক্ত কাজের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ভর্তুকি পাবে।

(৯) প্রয়োগকারী ও তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা:

  1. RTEAঠিকমতো রূপায়িত হচ্ছে কি না তা কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করবেNCPCR বা National Commission for Protection of Child Rights এবং রাজ্য স্তরে SCPCR বা State Commission for Protection of Child Rights.
  2. NCPCR /SCPCR Civil Court-র ন্যায় কাজ করবে অর্থাৎ এদের হাতে আইনি ক্ষমতাও থাকবে।
  3. RTEAপ্রয়োগ করার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে শিক্ষা দপ্তরের উপর। শিক্ষা দপ্তর আবারPRI (Panchayati Raj Institution)-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে।

স্কুলে শিক্ষার অধিকার আইনের প্রভাব:

শিক্ষার অধিকার আইন প্রণয়নের পর থেকে, বিদ্যালয় শিক্ষার অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ্য করা যায়বিশেষ করে গরিব শ্রেণী ও গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব অনেকটা আশানুরূপ দেখা যায়, যেমন

(i) ভর্তির সুযোগ সৃষ্টিঃ

বিদ্যালয়ে সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য  অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রারম্ভিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছেতাছাড়া বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে

(ii) বিনা ব্যয়ে প্রারম্ভিক শিক্ষাঃ

স্কুলে শিক্ষা অধিকার আইনের প্রভাবে বর্তমানে বিনা ব্যয়ে শিক্ষার প্রতি জনগণের আগ্রহ দেখা

গেছেএখন অনেক প্রত্যন্ত গ্রামের অভিভাবকরা তাদের শিশুদের শিক্ষারপ্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে 

(iii) উন্নত শিক্ষা পরিকাঠামোঃ

এই আইন বলবৎ হবার সাথে সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের  প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে 

(iv) সার্বিক নির্বিচ্ছিন্ন মূল্যায়নঃ

শিক্ষার্থীদের সার্বিক মান  সুষ্ঠ মুল্যায়নের জন্য তাদের সারা বছর কয়েকটি পর্যায়ে মূল্যায়লের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছেযাতে তারা তাদের ত্রূটি অনুয়াযী ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে

(v) বয়স অনুযায়ী পাঠ্যক্রমঃ

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা যেহেতু শিশু কেন্দ্রিক শিক্ষা,তাই বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্য পুস্তক শিক্ষার্থীদের

বয়স  সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠক্রম তৈরী করা হচ্ছেযাতে তারা বয়স অনুযায়ী সঠিক শিক্ষা  অর্জন করতে পারে

(vi) ভর্তিকরণ ক্রমসূচীঃ

এখন বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন ভর্তির পরিবর্তে সারা বছরই শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী শ্রেনীতে ভর্তি হতে পারবেএর ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুট হতে পারবে না

(vii) শিক্ষকশিক্ষার্থীর সুষ্ঠ সম্পর্কঃ

এই আইন শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন এনেছে ঠিক তেমনি শিক্ষক  শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এনেছে সুষ্ঠ সম্পর্ক

(viii) অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থাঃ

শিক্ষার অধিকার আইন বলবৎ হবার সাথে সাথে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্রতে এগিয়ে আনতে শিক্ষা দপ্তর নানা রকম কর্মসূচি, বিভিন্ন প্রকল্প  শিক্ষা ভাতা দিয়ে থাকছে

(ix) বিদ্যালয় পরিদর্শন ব্যবস্থার উন্নতিকরণঃ

শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় হল সঠিক ভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শন,যা এই আইনের ফলে যথেষ্ট দ্রুততার সাথে পরিদর্শন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ করা হয়েছে

উপসংহারঃ

উপরি উক্ত আলোচনার পরিপেক্ষিতে বলা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, শিশু সুরক্ষা , অবশ্যিক শিক্ষা, নিরক্ষরতা  দূরীকরণ প্রভৃতির পরিবর্তন  পরিবর্ধনের জন্য শিক্ষার অধিকার আইন, একটি গুরুত্ব পূর্ণ পদক্ষেপযা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছেতবুও এর কিছু  ব্যর্থতা লক্ষ্য করা যায়

রেফারেন্সঃ

 চন্দ বিনায়ক, সমকালীন ভারতবর্ষ  শিক্ষা, আহেলী প্রকাশন, কলকাতা

পাল দেবাশিষ, সমকালীন ভারত  শিক্ষা, রীতা পাবলিকেশন, কলকাতা

DAS Coaching PDF Download

——-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending Posts
-February 23, 2024
-February 22, 2024
Author

Soumen Das

I am SOUMEN DAS, founder of DAS COACHING. I have been associated with this DAS COACHING online educational platform for 4 years. I am a blogger, YouTuber and teacher. I have been involved in teaching profession for 8 years.

Follow Me

Top Picks
Newsletter
Categories
Edit Template

DAS COACHING is the most trustworthy Learning Site in India and West Bengal. Learn with Us and Buy Our E-Books

© DAS Coaching 2024

Design by Krishanu Chakraborty

Contacts

error: Content is protected !!
×

Hello!

Click one of our contacts below to chat on WhatsApp

× How can I help you?